ব্রেকিং নিউজ
ফরিদগঞ্জে কথিত চিকিৎসকের সন্ত্রাসী হামলার শিকার সাংবাদিক মোহনপুরে উপজেলা নির্বাচন বর্জনে বিএনপির লিফলেট বিতরণমোহনপুরে উপজেলা নির্বাচন বর্জনে বিএনপির লিফলেট বিতরণ ফরিদগঞ্জে মনিরের জন্য ভোট চেয়েছেন জাহিদুল ইসলাম রোমান রূপসা উত্তরে তালা প্রতীকের পথসভা হাইমচরে জেলেদের মাঝে গরু বিতরণ ফরিদগঞ্জে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনিরের তালা মার্কার পথসভা সভ্য, উন্নত, মার্জিত জাতি গঠন করতে হলে সে জাতিকে আগে সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে …….. মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী হাইমচরে ইমাম, মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের ওরিয়েন্টেশন কোর্স সভা অনুষ্ঠিত হাফ্ফাজুল কুরাআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ” হিফ্জ পরিক্ষায় সমগ্র বাংলাদেশে ২য় স্থান হয়ে হাইমচরে তাহফিজুল উম্মাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আওলাদ হোসেন হাইমচরে পূর্বের শত্রুতাকে কেন্দ্র হামলায় আহত ১

অধ্যাপক তাহের হত্যা: দুই আসামীর ফাঁসির প্রক্রিয়া শুরু

Reporter Name / ২০৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০২৩

রাজশাহী ব্যুরো: প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলার দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে  রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। 

এ দুই ফাঁসির আসামি হলেন- রাবির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের তৎকালীন সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মো. মহিউদ্দিন এবং ড. তাহেরের বাসার তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলম। ২০০৮ সালে নিন্ম আদালতে মামলার রায় ঘোষণার পর থেকেই তারা রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। তাদের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এরইমধ্যে আজ দুপুরে দুই পরিবারের প্রায় ৩৫ জন সাক্ষাত করেছেন।

এর আগে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত দুই আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন। আবেদন নাকচের চিঠি সম্প্রতি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছার পর ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নেয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।  

রাজশাহীর ডিআইজি (প্রিজন) কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করার ফলে জেল কোর্ড অনুযায়ী দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ফাঁসি কর্যকরের আগে আত্মীয়স্বজনদের শেষ দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাবির কোয়ার্টারের ম্যানহোলে পাওয়া যায় পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার অধ্যাপক তাহেরের মরদেহ। ৩ ফেব্রুয়ারি নিহত অধ্যাপক তাহেরের ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।  

হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালত চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, নিহত অধ্যাপক ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর আলম, নাজমুল আলম ও আব্দুস সালাম।

খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও আজিমুদ্দিন মুন্সী।

২০০৮ সালে বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন।

শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল অধ্যাপক ড. এস তাহের হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল এবং অন্য দুই আসামির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন হাইকোর্ট।

ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল রাখা দুই আসামি হলেন- একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও নিহত ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম।

ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া দুই আসামি হলেন-নাজমুল আলম ও আব্দুস সালাম।

এরপর আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করেন। পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ডিত দুই আসামির দণ্ড বাড়াতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

শুনানি শেষে গত বছরের ৫ এপ্রিল আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখেন।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, আসামিদের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, হত্যার এ ষড়যন্ত্রে মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিনই মুখ্য ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমাদের এটি বলতে দ্বিধা নেই যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন শুধুমাত্র প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেতেই ড. তাহেরকে এ পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেন। তার ধারণা ছিল ড. তাহের বেঁচে থাকলে অধ্যাপক হিসেবে তার পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব না।

আমাদের এটি বলতে দ্বিধা নেই যে, আপিলকারী জাহাঙ্গীর আলম এবং আবেদনকারী আব্দুস সালাম ও নাজমুল আর্থিক সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার জন্য অধ্যাপক তাহেরকে হত্যার জন্য ড. মহিউদ্দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন।  

১৫ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম এবং যাবজ্জীবন দণ্ডিত সালাম রিভিউ আবেদন করেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রিভিউয়ের ওপর শুনানি শুরু হয়।

[ ছবি ক্যাপশন: অধ্যাপক ড. এস তাহের হত্যা মামলায় চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। ছবি: সংগৃহীত ]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
data macau apk togel situs togel terpercaya data macau